স্ত্রীকে অপেক্ষায় রেখে আর ফেরা হলো না মজনুর


  1. প্রচ্ছদ
  2. সারাদেশ
  3. স্ত্রীকে অপেক্ষায় রেখে আর ফেরা হলো না মজনুর

স্ত্রীকে অপেক্ষায় রেখে আর ফেরা হলো না মজনুর

  গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি ০৮ আগস্ট ২০১৯, ১৯:৫৯ | অনলাইন সংস্করণ

মো. মজনু সরদার

মো. মজনু সরদার। ছবি: যুগান্তর

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন মো. মজনু সরদার (৪০)। রাস্তায় যানজটে আটকে স্ত্রীকে ফোন দিয়েছিলেন আসতে দেরি হবে বলে। কিন্তু আর ফেরা হলো না তার। পরদিন রাস্তায় মিলল তার লাশ।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের সিদাম দত্ত এলাকায় মহাসড়কের কিছু দূর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত মজনু সরদার মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার নবগ্রামের মৃত খৈমদ্দিন সরদারের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও থানা পুলিশ সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে ওই ব্যক্তির লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

এ সময় মৃত ব্যক্তির কাছে থাকা ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে তার পরিচয় নিশ্চিত হয়ে পরিবারের কাছে খবর দেয়। পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

নিহত মজনুর ভাই আ. গফুর সরদার জানান, তার ভাই জাহাজে বাবুর্চির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। গত ২৬ জুলাই তিনি বাড়ি থেকে কর্মস্থলে গিয়ে বুধবার খুলনার মোংলা থেকে বাড়িতে আসছিলেন।

নিহতের ছেলে রবিউল হোসেন জানান, বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে তার বাবা তার মাকে ফোন করে বলেন, তিনি (নিহত মজনু) গোয়ালন্দে মহসড়কের যানজটে আটকে আছেন।

যেহেতু ঘাট থেকে অনেক দূরে তাই অন্য কোনো উপায়ে রওনা না দিয়ে বাসের মধ্যেই বসে আছি। সকাল নাগাদ পৌঁছে যাব। কিন্তু সকালে বাবার লাশ উদ্ধারের খবর পাই।

এ সময় তিনি আরও বলেন, তার বাবার কোনো শত্রু আছে বলে জানা নেই। তাছাড়া তার বাবার গোয়ালন্দে যাতায়াতও ছিল না বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, কিভাবে বা কি কারণে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চি‎হ্ন নেই।

আবার তার কাছে থাকা কিছু টাকা ও মোবাইল ফোনটিও অক্ষত রয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় গোয়ালন্দ ঘাট থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *